জাপানে কম খরচে পড়াশোনা করার সম্পূর্ণ গাইড
জাপানে কম খরচে পড়াশোনা করা সম্ভব, যদি সঠিক পরিকল্পনা করা যায়। প্রথমে স্কলারশিপ খোঁজা গুরুত্বপূর্ণ, যেমন MEXT বা বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপ। অনেক জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি তুলনামূলক কম এবং কিস্তিতে দেওয়ার সুযোগ থাকে। স্টুডেন্ট ভিসা পেলে পার্ট টাইম কাজ করার অনুমতি থাকে।
যা খরচ কমাতে সাহায্য করে, সাধারণত শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ২০ থেকে ২৮ ঘণ্টা কাজ করে নিজের খরচ চালাতে পারে। হোস্টেল বা রুম শেয়ার করে থাকলে খরচ অনেক কমে যায়। খাবারের খরচ কমাতে নিজে রান্না করা ভালো একটি উপায়। জাপানে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করলে কম খরচে যাতায়াত করা যায়।
সূচিপত্রঃ জাপানে কম খরচে পড়াশোনা করার সম্পূর্ণ গাইড
- জাপানি ভাষা শেখার গুরুত্ব
- IELTS ছাড়া জাপানে পড়ার সুযোগ
- কেন জাপানে পড়াশোনা করবেন
- জাপানের পড়াশোনার মোট খরচের ধারণা
- কম খরচে পড়ার জন্য সঠিক বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন
- স্কলারশিপের ধরণ এবং আবেদন পদ্ধতি
- স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া
- খাবার ও দৈনন্দিন খরচ কমানোর উপায়
- থাকার ব্যবস্থা
- সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ও সমাধান
- উপসংহার
জাপানি ভাষা শেখার গুরুত্ব
জাপানি ভাষা শেখা, উচ্চশিক্ষ, ক্যারিয়ার গড়া, আইটি ইঞ্জিনিয়ারিং, নার্সিং
এবং জাপানি সংস্কৃতি বোঝার জন্য এই ভাষা শেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি
বিশ্বজুড়ে কাজের সুযোগ বাড়ায়, বিশেষ করে প্রযুক্তি ও বাণিজ্য খাতে। এছাড়া
জাপানে পড়াশোনা এবং তাদের জন্য ভাষা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা
বাংলাদেশীদের জন্য দারুন সুযোগ তৈরি করে।
জাপান বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। সেখানে প্রচুর কাজের সুযোগ রয়েছে,
বিশেষ করে আইটি, অটোমোবাইল, এবং নার্সিং খাতে। জাপানি ভাষা জানা থাকলে ভালো
বেতনের চাকরির নিশ্চয়তা পাওয়া যায়। জাপান গবেষণা ও প্রযুক্তিতে বিশ্বের
অন্যতম সেরা দেশ। বৃত্তি নিয়ে জাপানে উচ্চশিক্ষা অর্জনে জন্য জাপানি ভাষা
শেখার অত্যন্ত সহায়ক।
জাপানি সংস্কৃতি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়। ভাষা জানলে সাবটাইটেল ছাড়াই মূল
সংস্কৃতির আসল স্বাদ পাওয়া যায়। জাপানি কোম্পানিগুলোর সাথে সরাসরি যোগাযোগের
জন্য জাপানি ভাষা জানা থাকলে ব্যবসায়ীর নতুন সুযোগ তৈরি হয়, কারণ অনেক জাপানি
কোম্পানি আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করে। জাপানে ভ্রমণ বা বসবাস করার সময়
স্থানীয় ভাষা জানলে দৈনন্দিন জীবন সহজ হয়
IELTS ছাড়া জাপানে পড়ার সুযোগ
আই ই এল টি এস ছাড়াই জাপানে উচ্চশিক্ষা বা গবেষণার বেশ কিছু চমৎকার সুযোগ
রয়েছে। মূলত তিনটি প্রধান উপায়ে আপনি এই সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন।
- জাপানি ল্যাংগুয়েজ স্কুলঃ এটি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য জাপানে যাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম। এক্ষেত্রে আইইএলটিএস লাগে না। তবে জাপানি ভাষার প্রাথমিক জ্ঞান থাকতে হয়। এক্ষেত্রে অন্তত ১৫০ ঘন্টার জাপানি ভাষা শেখার সার্টিফিকেট বা JLPT N5 লেভেল পাস থাকা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সুবিধা রয়েছে জাপানে পৌঁছে এক থেকে দুই বছর ভাষা শেখার পর সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় বা ভোকেশনাল কলেজে ভর্তি হওয়া যায়
- MOI (Medium of Instruction) সার্টিফিকেটঃ যদি আপনার আগের পড়াশোনা যেমন ব্যাচেলর ইংরেজি মাধ্যমে হয়ে থাকে, তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে একটি এমওআই সার্টিফিকেট নিয়ে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন করা যায়। শর্ত হল অনেক জাপানি বিশ্ববিদ্যালয় আইইএলটিএস এর বিকল্প হিসেবে এটি গ্রহণ করে, তবে আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইড লাইন চেক করে নেওয়া ভালো।
কিছু জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়, যেমন টোকিও ইউনিভার্সিটি,
কিয়োটো ইউনিভার্সিটি, নির্দিষ্ট কিছু প্রোগ্রাম এর জন্য আইইএলটিএস
ছাড়াই আবেদন গ্রহণ করে। ভালো সিজিপিএ থাকতে হবে এজন্য। ইংরেজি মাধ্যম হলো এম
ও আই অথবা জাপানি ভাষা জানা থাকলে সুবিধা হয়।
আরও পড়ুনঃ
ফ্রেলান্সিং কি সত্যিই সবার জন্য
কেন জাপানে পড়াশোনা করবেন
জাপানের উচ্চশিক্ষা মানে বিশ্বমানের শিক্ষা, অত্যাধুনিক গবেষণা ও নিরাপদ
জীবনযাত্রার সংমিশ্রণ। প্রধান কারণ গুলো হলোঃ শীর্ষ স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়
যেমন টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় তুলনামূলক কম টিউশন ফি ও প্রচুর স্কলারশিপ,
পার্ট টাইম কাজের সুযোগ মাসে ১২৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ থাকে এবং
পড়াশোনা শেষে চমৎকার ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ।
উচ্চ মানের শিক্ষা ও গবেষণা জাপান বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল শিক্ষার
বিশ্বের অন্যতম সেরা। থাকা অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এখানে রয়েছে। সাশ্রয়
খরচ স্কলারশিপ, অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় জাপানের টিউশন ফি কম, সাথে আছে
মেক্সট সহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি স্কলারশিপ এর সুবিধা। এছাড়া পার্ট টাইম
জব করার অনুমতি।
আন্তর্জাতিক ছাত্ররা পড়াশোনা পাশাপাশি পার্ট টাইম কাজ করে নিজের খরচ চালাতে
পারে। নিরাপদ ও সুশৃংখল জীবন জাপান বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ দেশ। এখানকার
পরিবহন ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত। এছাড়া চাকরির সুযোগও থাকে। পড়াশোনা শেষ করে
জাপানে কাজ করার বিপুল সুযোগ রয়েছে বিশেষ করে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে।
কম খরচে পড়ার জন্য সঠিক বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন
জাপানে কম খরচে উচ্চ শিক্ষার জন্য সঠিক বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করা একটি
কৌশলগত সিদ্ধান্ত। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কলারশিপ এর সুযোগ এবং জীবন
যাত্রার বাইক কম এবং সহ নির্বাচন করা এক্ষেত্রে মূল চাবিকাঠি। কম খরচে পড়ার
জন্য কিছু বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আলোচনা করা হলো
জাপানে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি গুলোতে টিউশনটি তুলনামূলক কম, বছরে প্রায় ৫৩৫,
৮০০ ইয়েন প্রায় তিন হাজার থেকে চার হাজার মার্কিন ডলার।
কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম সেরা এবং সাশ্রয়ী বিশ্ববিদ্যালয়।
চিবা বিশ্ববিদ্যালয় সাশ্রয় টিউশন ফি এবং গবেষণার ভালো সুযোগ রয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অফ সুকুবা ইংরেজির মাধ্যমে পড়ার জন্য অধিক সুযোগ ও সাশ্রয়ী
অবস্থানে রয়েছে।
স্কলারশিপ পেলে জাপানের পড়াশোনা সম্পূর্ণ বিনা ফরজ করা সম্ভব।মেক্সট
স্কলারশিপ, এটি জাপান সরকারের সবচেয়ে সম্মানজনক ও পূর্ণ অর্থায়নে বৃত্তি।
এতে টিউশন ফি মওকুফ, মাসিক ভাতা প্রায় ১১৭,০০০ ইইয়েন এবং বিমানের টিকিটসহ
সম্পূর্ণ খরচ গ্রহণ করা হয়।
স্কলারশিপ এ ধরন এবং আবেদন পদ্ধতি
জাপানে উচ্চ শিক্ষার জন্য মূলত তিন ধরনের স্কলারশিপ পাওয়া যায়। এগুলোর
প্রধান স্কলার্শিপ গুলো MEXT, JASSO, বেসরকারি ফাউন্ডেশন ও ইউনিভার্সিটি
স্কলারশিপ। মেক্সট এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুল হান্ড্রেড স্কলার্শিপ। জাশশো এটি
মূলত জাপানের অবস্থানরত বা জাপানি বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন করা শিক্ষার্থীদের
জন্য অনার্স স্কলারশিপ বা মাসিক উপবৃত্তি হিসেবে দেওয়া হয়।
বেসরকারি ফাউন্ডেশন ও ইউনিভার্সিটির স্কলারশিপ বিভিন্ন সংস্থা এই
স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। এগুলোতে আবেদন করার প্রক্রিয়া মূলত দুটি মাধ্যমে
সম্পন্ন হয়। ক. এমবেসি রিকমেন্ডেশন, এটি সবচেয়ে প্রচলিত মাধ্যম।
বাংলাদেশের অবস্থিত জাপান দূতাবাস এর মাধ্যমে এ আবেদন করতে হয়। শিক্ষা
মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় সেখানে
অনলাইন আবেদন করতে হয়।
খ. ইউনিভার্সিটি রেকুমেন্টেশন এটি সরাসরি জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়ের
মাধ্যমে এ আবেদন করা যায়। সাধারণত যারা কোন জাপানি প্রফেসরের সাথে যোগাযোগ
করে রিচার্জ করার সুযোগ পান, তাদের জন্য এটি সহজ হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আবেদনের সময় সাধারণত পূরন্ত আবেদন ফরম, একাডেমিক সার্টিফিকেট, রিকমেন্ডেশন
লেটার, হেলথ সার্টিফিকেট, ভাষা দক্ষতার সহনদ ইত্যাদি প্রয়োজন হয়।
স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া
জাপানের স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার জন্য প্রথমে একটি জাপানি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে
ভর্তির আবেদন করে বা যোগ্যতা সনদ সংগ্রহ করতে হয়। এরপর এই সিওই পাসপোর্ট, ও
প্রয়োজনীয় আর্থিক নথিপত্রসহ বাংলাদেশের জাপানি দূতাবাসের স্টুডেন্ট ভিসার
আবেদন করতে হয়। সাধারণত তিন থেকে চার মাস সময় লাগে
প্রথমে জাপানের ভাষা ইস্কুল বা সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ভর্তির আবেদন
করুন। আবেদনের জন্য সাধারণত এইচএসসি পাশ সমমান পাস হতে হয়। ইস্কুল আপনাকে
গ্রহণ করলে, তারা জাপানের ইমিগ্রেশন থেকে আপনার সিওই এর জন্য আবেদন করবে। এটি
ভিসা পাওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, মূল এবং তার ফটোকপি, ভিসা আবেদনের ফর্ম, বৈধ পাসপোর্ট,
পাসপোর্ট সাইজের ছবি, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও মার্কসিট, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও
স্পন্সরের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ। ভিসা আবেদন জমা, আপনার দেশের নিকটস্থ
জাপানি দূতাবাসের মাধ্যমে ভিসা জমা দিন। স্টুডেন্ট ভিসায় জাপানে গিয়ে
সর্বোচ্চ ২৮ ঘন্টা কাজের সুযোগ।
খাবারও দৈনন্দিন খরচ কমানোর উপায়
জাপানে খাবার ও দৈনন্দিন খরচ কমানোর জন্য স্মার্ট পরিকল্পনা ও কিছু জাপানি
কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে। নিজে রান্না করে খাওয়া সবচেয়ে ভালো। বাইরে
খাওয়ার চেয়ে ঘরে রান্না করে সবচেয়ে সাশ্রয়। মুদি দোকান থেকে কাঁচামাল
কিনে রান্না করলে খরচ অনেক কমে যায়। সাধারণত সন্ধ্যা সাতটা বা আটটার পর
সুপার মার্কেটগুলোতে শেষ খাবার মাংস সূচিতে টেন পার্সেন্ট থেকে ফিফটি
পার্সেন্ট পর্যন্ত ডিসকাউন্ট দেয়া হয়।
ডিসকাউন্ট এর দোকান গুলো ব্যবহার করুন। এই দোকানগুলোতে পাইকারি দামে বা খরচ
কমে খাবার ও অন্যান্য জিনিস কেনা যায়। লাঞ্চ বক্স ব্যবহার, কনফিডেন্স স্টোরে
চেয়ে বড় সুপারমার্কেট থেকে লাঞ্চ বক্স কিনলে প্রায় 500 ইয়েন এর
মধ্যেই ভাল খাবার পাওয়া যায়। প্রতিদিনের কফি বা পানি কেনা বন্ধ করে নিজের
থাকতে পানি বা কফি সাথে নিয়ে বের হন।
জামাকাপড় আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স বা বই কেনার জন্য বুক অফ এর মত দোকানগুলো
ব্যবহার করুন। প্রায় সব দোকানে পয়েন্ট কার্ড দেই। ৮ পয়েন্ট গুলো পড়ে টাকা
হিসেবে ব্যবহার করা যায়, যা দীর্ঘমেয়াদি সাশ্রয়ী। ছোটদের যাতায়াতের জন্য
বাস বা ট্রেন এর পরিবর্তে সাইকেল ব্যবহার করুন এতে খরচ কম হয়।
থাকার ব্যবস্থা
জাপানে থাকার জন্য প্রধানত স্টুডেন্ট ভিসা ভাষা কোর্স বা উচ্চ শিক্ষা এবং SSW
ভিসার মাধ্যমে কাজের সুযোগ সবচেয়ে জনপ্রিয়। SSW ভিসায় দক্ষ কর্মী হিসাবে
দ্বীনের নির্দিষ্ট খাতে কাজ করা যায়। এবং পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের
সুযোগ্য তৈরি হতে পারে। আবাসন ব্যবস্থা হিসাবে শেয়ার হাউস,
অ্যাপার্টমেন্ট বা ডরমিটারি রয়েছে।
স্টুডেন্ট ভিসা ভাষা ইস্কুল, কারিগরি শিক্ষা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য।
SSW ভিসা ১৯ টি নির্দিষ্ট থাকে কাজের জন্য, যেখানে জাপানি ভাষা ও কাজের
দক্ষতা প্রয়োজন। বিজনেস ভিসা, নতুন ব্যবসার উদ্যোগের মাধ্যমে স্থায়ী
হওয়ার সুযোগ। বিদেশীদের জন্য সবচেয়ে সহজ, সস্তা এবং আসবাবপত্র থাকার
ব্যবস্থা শেয়ার হাউস।
অ্যাপার্টমেন্ট সাধারণত ১ থেকে ২ বছরের চুক্তিতে ভাড়া নিতে হয়, আসবাবপত্র
নিজেকে কিনতে হয়।ডরমিটরি, ভাষা ইস্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের
জন্য সাধারণ ব্যবস্থা। জাপানি ভাষা জানা জরুরি কমপক্ষে n5 n4 লেভেল পর্যন্ত।
খাবার ও জীবনযাত্রার খরচ মাঝারি থেকে উচ্চ মানের তবে খন্ডকালীন কাজের মাধ্যমে
খরচ চালানো সম্ভব।
সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ও সমাধান
জাপানে বসবাসের ক্ষেত্রে কিছু বাস্তবসম্মত চ্যালেঞ্জ থাকলেও সঠিক প্রস্তুতির
মাধ্যমে সেগুলো সমাধান করা সম্ভব। এর মধ্যে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হল
ভাষা বাধা, বড় শহরগুলোতে ইংরেজি করলেও সরকারি কাজ, ব্যাংকিং, এবং
হাসপাতালের মতো জরুরি জায়গায় জাপানি ভাষা ছাড়া প্রায় অসম্ভব। জাপানে
যাওয়ার আগে কমপক্ষে n5 এবং n4 লেভেল সম্পন্ন করা জরুরি।
তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে গুগল ট্রান্সলেট app ব্যবহার করা যায়। এছাড়া টোকিও বা
অসাধার মত বড় শহরগুলোতে ইংরেজি জানা এজেন্ট বা ডাক্তার খুঁজে পাওয়া সহজ।
আবাসন সমস্যা, অনেক মালিক বাহির দেশের মানুষের কাছে বাড়ি ভাড়া দিতে ইতস্ত
বোধ করেন। এছাড়া বাসা ভাড়া শুরুতে সিকিউরিটি ডিপোজিট মিলিয়ে চার থেকে ছয়
মাসের ভাড়া সমমান অগ্রিম অর্থ লাগতে পারে।
এর সমাধান হচ্ছে, বিদেশি বান্ধবী রিয়েল এস্টেট এজেন্সি এর সাহায্য নেয়া
যেতে পারে। এছাড়া গ্যারান্টার সমস্যার সমাধানে গ্যারান্টের কোম্পানি ব্যবহার
করা এবং বড় অংকের অগ্রিম এ রাতে শেয়ার হাউস এ থাকা ভালো। কাজের চাপ ও নিয়ম
কানুন থাকে। শিক্ষার্থীদের জন্য সপ্তাহে ২৮ ঘন্টার বেশি কাজ করার অনুমতি
নেই।
আরও পড়ুনঃ ডিজিটাল জোন আইটি বিডির যোগাযোগ ঠিকানা
উপসংহার
সারসংক্ষেপে, জাপানের বসবাসের বিষয়টি যেমন সম্ভাবনাময়, তেমনি এটি সঠিক
পরিকল্পনা ও ধৈর্যের দাবি রাখে। এর জন্য প্রস্তুতি আসল। জাপানি ভাষার
প্রাথমিক জ্ঞান এবং সে দেশের সাংস্কৃতিক সম্পদের ধারণা থাকলে চ্যালেঞ্জগুলো
অনেক সহজ হয়ে যায়। শিক্ষার্থী বা দক্ষ কর্মী হিসেবে যাওয়ার মাধ্যমে
ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি উন্নত জীবনযাত্রা অভিজ্ঞতা নেওয়া সম্ভব।
শুরুতে আবাসন ও কাজের সংস্কৃতি নিয়ে কিছুটা বেগ পেতে হলেও শেয়ার হাউজ বা
বিদেশি কমিউনিটির সহায়তায় দ্রুত মানিয়ে নেওয়া যায়। পরিশেষে বলা যায়,
জাপানের সুশৃংখল পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আপনার
দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যতের জন্য একটি চমৎকার গন্তব্য হতে পারে।

.webp)
.webp)
ডিজিটাল জোন আইটি বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url