ঘুমের অভাবে শরীরে কি প্রভাব ফেলে
ঘুমের অভাবকে হালকা ভাবে নেওয়ার সুযোগ নাই এটা শরীর ও মনের ওপর ধীরে ধীরে বড় প্রভাব ফেলে। ঘুমের অভাবে ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যায়, চোখের নিচে কালো দাগ পরে এবং চেহারায় ক্লান্ত ভাব দেখা যায়।
কাজের উৎপাদনশীলতা কমে যায়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হয় এবং দৈনন্দিন কাজে আগ্রহ কমে যায়। ঘুমের ঘাটতি থাকলে শরীরে অনেক দুর্বলতা দেখা যায়। শরীর সবসময় ক্লান্ত মনে হয় তাই পর্যাপ্ত ঘুমের দরকার। ঘুমের অভাবে কোন কাজের ওপর ঠিকভাবে মনোযোগ আসে না এতে কাজের ব্যাঘাত ঘটে।
সূচিপত্রঃ ঘুমের অভাবে শরীরে কি প্রভাব ফেলে
- মানবদেহে ঘুমের গুরুত্ব
- ঘুমের অভাব কি এবং কেন হয়
- মস্তিষ্ক ও মানসিক প্রভাব
- হরমোন ও ওজনের পরিবর্তন
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর প্রভাব
- ত্বক ও শারীরিক সৌন্দর্যের প্রভাব
- দৈনন্দিন কাজ ও উৎপাদনশীলতায় প্রভাব
- দীর্ঘমেয়াদী রোগের ঝুঁকি
- ঘুমের অভাব দূর করার উপায়
- উপসংহার
মানবদেহে ঘুমের গুরুত্ব
মানবদেহে ঘুমের গুরুত্ব অপরিসীম। পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম না হলে শরীর অত্যান্ত
ক্লান্ত ও দুর্বল মনে হয়। এতে বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দেয়। একজন মানুষের
প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন। ঘুমের ঘাটতি মানবদেহ দুর্বল করে
দেয়, এতে মানুষ কাজ করেও শান্তি পায় না। কোন কাজে ভালোভাবে মনোযোগ দিতে
পারেনা।
মানবদেহে সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন। এটি শারীরিক মেরামত, মস্তিষ্ক
পুনরায় সক্রিয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
ঘুমের অভাবে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, ওজন বৃদ্ধি এবং মানসিক
ঝুঁকি বাড়ায়। ঘুমের সময় শরীর মেরামত করে এবং শক্তি পুনরুদ্ধার করে যা আপনার
ক্রান্তি দূর করতে সাহায্য করে।
পর্যাপ্ত ঘুম আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে তোলে, মনোযোগ
বাড়াতে এবং সক্রিয় করতে সাহায্য করে। ঘুম মানসিক চাপ কমায়, যে কোন দুশ্চিন্তা
থেকে মুক্তি দেয়। আবেগ ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করে নিয়মিত সাত আট ঘন্টা ঘুম উচ্চ
রক্তচাপ ও হার্টের অসুখে ঝুঁকি কমায়।
ঘুমের অভাবে কি এবং কেন হয়
ঘুমের অভাব হল এমন একটি অবস্থা যখন আপনি অত্যন্ত ক্লান্ত এবং ডিপ্রেশনের মধ্যে
আছেন আপনার একটা পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন কিন্তু আপনার সেই ঘুমটা হচ্ছে না
বা আপনি এখন ঘুমানোর পর্যায়ে নাই তখন আপনার এই ঘুমের অভাবটা হয়ে থাকে। এই
অভাবটা আপনি অন্য কোন সময়ে তা পুষিয়ে নিতে পারেন না
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন সাধারণত সাত থেকে নয় ঘন্টা ঘুমানো
প্রয়োজন এটি মানসিক চাপ, অসুস্থতা, বা সবার ঘরের পরিবেশের কারণে হয়ে থাকে।
এই ঘুমের অভাবের কারণে আপনি দিনের বেলায় ক্লান্তি অনুভব করেন। দীর্ঘমেয়াদি
ঘুমের অভাব আপনার শরীরকে ধীরে ধীরে অসুস্থতা দিকে নিয়ে যাই। ঘুমের অভাব হওয়ার
কারণ রাত জেগে কাজ করা মোবাইল ফোন চালানো ইত্যাদি কারণ।
ঘুমের অভাব হওয়ার কারণ-জীবনযাত্রা ধরন, মানসিক চাপ, চিকিৎসা সংক্রান্ত
কারণে, ঘুমের ব্যাধি, পরিবেশগত সমস্যা ইত্যাদি কারণে ঘুমের অভাব হয়ে থাকে। ঘুমের
অভাবে লক্ষণ, সারাদিন ক্লান্তি, কাজে মনোযোগের অভাব, মাথা ব্যথা, মেজাজ খিটখিটে
হয়ে যাওয়া ইত্যাদির কারণ ঘুমের অভাব এর লক্ষণ।
মস্তিস্ক ও মানসিক প্রভাব
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে মস্তিষ্ক মানসিক স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে, যার
ফলে মনোযোগ কমে যাওয়া, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া, তীব্র মানসিক চাপ, অল্পতেই
বিরক্ত হয়ে যাওয়া, ইত্যাদি রোগের ঝুঁকি থাকে। এটি মস্তিষ্কের কর্ম ক্ষমতা ধর
করে মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করে এবং আবেগের উপর নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে দেয়।
ঘুমের অভাবে মস্তিষ্ক তথ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়া করতে পারে না। হলে মনোযোগ কমে
যাওয়া, অল্পতে রেগে যাওয়া মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া,
এবং কার্যক্ষমতা কমে যায়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে স্ট্রেস হরমন বেড়ে যায়, যা রাগ,
বিরক্তি এবং উদ্বেগ সৃষ্টি করে। ঘুমের অভাবে হতাশা এবং মানসিক
ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
আবেগের উপর নিয়ন্ত্রণ, ঘুমের অভাবে মস্তিষ্কের আবেগের কেন্দ্র বেশি সক্রিয় হয়ে
ওঠে ফলে ছোট বিষয়ের অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া বা আবেগপ্রবণতা তৈরি হয়। গবেষণায়
দেখা গেছে, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার কারণে মস্তিষ্কের কোষ দ্রুত বুড়িয়ে দেয়। সুস্থ
ও সচল মস্তিষ্কের জন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পর্যাপ্ত ঘুমের
প্রয়োজন।
হরমন ও ওজনের পরিবর্তন
ঘুমের অভাবে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং স্থির হয়ে যাওয়ার কারণে ওজন
বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ে। ঘুমের অভাবে ক্ষুধা বাড়ানো হয় এর মাত্রা বেড়ে
যায় এবং পেট ভরা থাকার সংকেত দেওয়া হরমোন এর মাত্রা কমে যায়। এর ফলে খাওয়ার
পরও বারবার ক্ষুদা লাগে। অনিদ্রার কারণে রক্তে কোর্টিসল হরমোনের মাত্রা
বৃদ্ধি পায়। চমৎকার কটিসল শরীরকে চর্বি ধরে রাখতে বাধ্য করে এবং উচ্চ
ক্যালরিযুক্ত খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়।
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে কোষগুলো তিন সুলিনের প্রতি কম সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। এর
ফলে রক্তে শর্করের মাত্রা বেড়ে যায় পরবর্তীতে চর্বি হিসাবে জমা করতে থাকে।
হিউম্যান গ্রোথ নিঃসরণ করে যা চর্বি পড়াতে সাহায্য করে। ঘুমের অভাবে এই
হরমোন কমে যাওয়া ওজন কমানো কঠিন হয়ে পড়ে।
ঘুমের অভাবে মস্তিষ্ক ক্লান্ত থাকায় দ্রুত শক্তির জন্য চিনি যুক্ত ও
চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি তীব্র আকর্ষণ হয়। ঘুমের অভাবে শরীর ক্লান্ত থাকায়
পরিশ্রম করা শক্তি ও ইচ্ছা কমে যায়। যা পরোক্ষভাবে ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। কাজ
করার কোন মন মানসিকতা থাকে না। অধিক ঘুমের অভাবে মানুষ দুর্বল হয়ে যেতে
পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর প্রভাব
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সিস্টেমকে সরাসরি দুর্বল করে
দেয়, যার ফলে শরীর খুব সহজে বিভিন্ন সংক্রমণ ও রোগের কবলে পড়ে। ঘুমের সময় শরীর
সাইটোকোইন নামক এক ধরনের প্রোটিন তৈরি করে যা সংক্রমণ ও প্রদানের বিরুদ্ধে লড়াই
করে। উপকারী প্রোটিন তৈরির পরিমাণ কমে যায়।
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার সংখ্যা ও
কার্য ক্ষমতা কমে যায়। ঘুমের অভাব থাকলে শরীরে টিকার কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।
কারণ শরীর পর্যাপ্ত এন্টিবডি তৈরি করতে পারে না। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে
দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ তৈরি হয় এবং বাতের মতো কি অটোইউমিউন রোগের ঝুঁকে
বাড়িয়ে দেয়।
সুস্থ থাকতে এবং শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে প্রতিদিন ভরে সাত
থেকে নয় ঘন্টা ঘুম অত্যন্ত জরুরি। কারণ পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মানব দেহ অচল হয়ে
যেতে পারে। কোন কাজ ঠিকমতো করতে পারেনা। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। শরীরের
বিভিন্ন অংশ অত্যন্ত দুর্বল হয়ে যায় এবং বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়।
আরোও পড়ুনঃ
ক্যানভা দিয়ে ডিজাইন করে টাকা আয় করার উপায়
ত্বক ও শারীরিক সৌন্দর্যের প্রভাব
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব কেবল ক্লান্তি আনে না, এটি তপ ও সৌন্দর্যের ওপর গভীর
নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ঘুমের সময় শরীর নতুন কোর্স তৈরি ও মেরামত প্রক্রিয়ার
মধ্যে দিয়ে যায়, যা ত্বককে সতেজ রাখে। ঘুমের সময় শরীরে তৈরি হয় কলাজেন
যা ত্বককে টানটান ও নমনীয় রাখে। ঘুমের অভাবে কলা যেন উৎপাদন কমে যায় এবং
শরীর হরমোন নিঃসরণ করে যা কোলাজেন ভেঙে দেয় ফলে ত্বককে অকালে হারাতে
হয়।
অতিরিক্ত ঘুমের অভাবে চোখের নিচে কালো দাগ দেখা যায়। এছাড়া লবণের ভারসাম্য নষ্ট
হয় চোখে পানি জমে চোখে চারপাশ খুলে যায়। ঘুমের অভাবে শরীরে ব্রণ সৃষ্টি হয়।
ঘুমের অভাবে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায় যার চুলের গোড়া দুর্বল করে এবং চুল পড়া
ঝুকে বাড়ায়। এক রাতে নির্ঘুম রাত আপনাকে অন্যদের কাছে কম আকর্ষণীয় ও বেশি
ক্লান্ত এবং অসুস্থ হিসেবে তুলে ধরতে পারে।
ত্বকের এই উজ্জ্বলতা ফিরে পেতে এবং দীর্ঘস্থায়ী খতিয়ে রাতে চিকিৎসকরা প্রতিদিন
অন্তত সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমের পরামর্শ দিয়ে থাকে। আপনি কি আপনার ত্বকে উন্নতির
জন্য কোন বিশেষ রুটিন সম্পর্কে জানতে চান।
দৈনন্দিন কাজ ও উৎপাদনশীলতাই প্রভাব
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব আপনার দৈনন্দিন কাজ এবং উৎপাদনশীলতাকে সরাসরি বাধা গ্রস্থ
করে। যখন মস্তিষ্ক বিশ্রাম হয় না তখন এটি ধীর গতিতে কাজ করে যার প্রভাব আপনার
সারাদিনের পারফরম্যান্সের উপর পড়ে। ঘুমের অভাবে কোন নির্দিষ্ট কাজে মনোযোগ
দেওয়া সম্ভব হয় না। আপনি সহজে অন্যমনস্ক হয়ে পড়েন যা কাজের গতি কমিয়ে
দেয়।
ছোটখাটো বিষয়ে ভুল করা বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
গবেষণায় দেখা গেছে অনিদ্রা একজন ব্যক্তির কর্ম ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। দ্রুত তথ্য
বিশ্লেষণ করতে পারে না ফলে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয় বা ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার
ঝুকি বারে। নতুন কোন আইডিয়া বা সমস্যার সমাধান বের করার ক্ষমতা কমে যায়
কারণ ক্লান্ত মস্তিষ্ক চিন্তা করতে অক্ষম হয়।
শরীর ও মনের ক্লান্তি আপনাকে উত্তমহীন করে তোলে কাজ জমিয়ে রাখার প্রবণতা বারে।
গাড়ি চালানো বা কাজ করার সময় ঘুমের অভাব মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে,
কারণ এতে লিখলে বা প্রতিক্রিয়া দেখানোর গতি ধীরে ধীরে কমে যায়। এক কথায় ঘুমের
অভাবে আপনি দীর্ঘ সময় কাজ করলেও আউটপুট বা কাজের মান অনেক কমে যায়।
দীর্ঘমেয়াদী রোগের ঝুঁকি
দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব কেবল ক্লান্তি নয় বরং শরীরে প্রতিটি অঙ্গ
প্রত্যঙ্গ উপর চাপ সৃষ্টি করে মারাত্মক সব রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ঘুমের
অভাবে রক্তচাপ বাড়ে এবং শরীরের প্রধান তৈরি হয়। এর ফলে দীর্ঘ নেতাদের উচ্চ
রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক, এবং স্টকের মতো রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
ঘুমের অভাবে শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি সঠিক সাড়া দেয় না। এর ফলে রক্তের
শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় এবং ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের দেখা দেয়।
আগে আলোচনা করা হয়েছে যে ঘুমের অভাবে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য
নষ্ট হয়। দীর্ঘ সময় ধরে কম ঘুমালে শরীর মেটাবলিজ কমে যায় যা স্থায়ীভাবে
মেদ বৃদ্ধির কারণ হয়।
ঘুমের চক্র শরীরে কিডনির কার্যকরিতা প্রভাবিত করে। গবেষণায় দেখা গেছে
দীর্ঘমেয়াদি অনিদ্রার কারণে কিডনির কর্ম ক্ষমতা দ্রুত কমে যায়। কিছু গবেষণায়
দেখা গেছে এবং অপর্যাপ প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমিয়ে দেয় যা
ক্যান্সারের মতো নির্দিষ্ট কিছু অসুখের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি
এই রোগ গুলো এ রাতে দৈনিক গড়ে সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমানো অত্যন্ত জরুরী।
ঘুমের অভাব দূর করার উপায়
ঘুমের অভাব দূর করার জন্য জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এবং কিছু নির্দিষ্ট অভ্যাস মেনে
চলা অত্যন্ত জরুরী। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস
করুন। বায়োলজিক্যাল ঠিক রাখে। দিনের বেলা দীর্ঘক্ষণ ঘুমানো এড়িয়ে চলুন।
প্রয়োজনে দুপুরে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের একটি ছোট ব্রেক নিতে পারে।
শোবার ঘর অন্ধকার, শীতল এবং শান্ত রাখার চেষ্টা করুন ঘরের তাপমাত্রা ১৮ থেকে ২০
ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে ঘুম দ্রুত আসে। বিছানাকে শুধু মাত্র ঘুম ও বিশ্রামের
জন্য নির্দিষ্ট রাখুন। পিছনে বসে ল্যাপটপে কাজ করা বা খাবার খাওয়া
এড়িয়ে চলুন। ঘুমানোর অন্তত এক ঘন্টা আগে মোবাইল টিভি বা ল্যাপটপ বন্ধ
রাখুন। দুপুরের পর থেকে চা বা কফি খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
ঘুমানোর অন্তত দুই থেকে তিন ঘন্টা আগের রাতের খাবার শেষ করুন। রাতের খাবার খুব
মসলাযুক্ত বা ভারি খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন। গত ৩০ মিনিট নিয়মিত ব্যান্ড বা
শরীর চর্চা করলে রাতে গভীর ঘুম হয়। তবে ঘুমানো ঠিক আগেই ভারী ব্যায়াম করবেন না।
ঘুমানোর আগে কুসুম গরম পানিতে গোসল করা এক কাপ গরম দুধ পান করা আপনার মস্তিষ্ককে
শান্ত করে।
আরও পড়ুনঃ মোবাইল নির্ভর প্রজন্মের বাস্তব জীবন
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায় ভুল কেবল শরীরের বিশ্রাম নয়, বরং এটি মস্তিষ্ক ও শারীরিক
সুস্থতার একটি অপরিহার্য রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব আমাদের
মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করে, ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং দীর্ঘ মেয়াদে হার্ট অ্যাটাক
বা ডায়াবেটিসের মতো ডান হাতে রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
তাই সুস্থ কর্মক্ষম এবং মানসিকভাবে প্রফুল্ল থাকতে দৈনিক সাত থেকে নয় ঘন্টা
মানসম্মত বিলাসিতা নয় বরং জীবনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে রাখা উচিত।
সঠিক খাদ্য অভ্যাস ও সুশৃঙ্খ জীবনযাত্রা মাধ্যমে আমরা সহজে একটি গভীর ও শান্তিময়
হোম নিশ্চিত করতে পারি।

.webp)
.webp)
ডিজিটাল জোন আইটি বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url